ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার পুঁজিবাজারের আধুনিকায়ন ও উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার(২২ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সহযোগিতায় বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা ও বাজারের স্বাভাবিক গতি বজায় রেখে এসব সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
পুঁজিবাজারে লেনদেন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ করতে স্ক্রিপ্ট নিটিং ও টি+১ (T+1) সেটেলমেন্ট ব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে। ডিএসই ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এ দুটি সুবিধা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এছাড়া, বাজারে নতুন বৈচিত্র্য আনতে আর্থিক ডেরিভেটিভস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যা প্রয়োজনীয় সচেতনতা তৈরি ও সিস্টেমে প্রয়োজনীয় হালনাগাদ শেষে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ওপেন-এন্ডেড মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য একটি পৃথক প্ল্যাটফর্ম বা মডিউল তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে, যা আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে চালু হতে পারে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা সহজেই মিউচুয়াল ফান্ড কেনাবেচা ও রিডিম করতে পারবেন, যা বাজারে শৃঙ্খলার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সাহায্য করবে।
বন্ড মার্কেটের উন্নয়নে ইস্যু সংক্রান্ত বিভিন্ন খরচ প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে, যাতে নতুন বন্ডগুলো মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত হয়। পাশাপাশি সেকেন্ডারি মার্কেটে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বন্ড লেনদেনে আরও সক্রিয় করতে ডিএসই কাজ করছে।
ডিএসইর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে নাসডাকের নতুন সফটওয়্যারভিত্তিক ম্যাচিং ইঞ্জিন চালুর কাজ এগোচ্ছে, যা ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ডিজাস্টার রিকভারি (ডিআর) সিস্টেম হালনাগাদসহ সার্বিক আইটি অবকাঠামোকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূল্যের আওতায় আনা হচ্ছে।

Leave a Reply